১০ উইকেটে জিতল চিটাগং

ঢাকা:
 ঘরের মাঠ। কিন্তু টানা দুই হার। সঙ্গে প্রথম পর্বের তিন হারের তিক্ত স্মৃতি। বিপিএল থেকে বিদায়ের আশঙ্কা পুরোদমে তখন চিটাগং ভাইকিংস শিবিরে। ভক্ত-সমর্থকদের বিরক্তিও চরমে। তবে নিজেদের সপ্তম ম্যাচে দুর্দান্ত জয় দিয়ে লড়াইয়ে টিকে থাকল তামিম শিবির। বুধবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে তামিম-দিলশানের খুনে ব্যাটিংয়ে সিলেট সুপার স্টার্সকে ১০ উইকেটে পরাজিত করেছে চিটাগং ভাইকিংস।

হারতে হারতে ক্লান্ত সিলেটেরও লক্ষ্য ছিল এই ম্যাচ দিয়ে কক্ষপথে ফেরা। উপলক্ষ্য ছিল তিন ক্রিকেটারের দলে অন্তর্ভুক্তি। তারা হলেন পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি, সোহেল তানভীর ও বাংলাদেশের আব্দুর রাজ্জাক। ব্যাট হাতে আফ্রিদি ঝলক দেখালেও বল হাতে অকার্যকর ছিলেন সবাই। ফলে নয় উইকেটে ১৩৯ রান করেও বাজেভাবে হারতে হয়েছে সিলেটকে।

১৪০ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে চিটাগং জয়ের বন্দরে পৌছে যায় ১৬.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে। সাত ম্যাচে দ্বিতীয় জয় এটি চিটাগংয়ের। আর ছয় ম্যাচে পঞ্চম হার এটি সিলেটের। দুই জয়ের সুবাদে পয়েন্ট তালিকায় পঞ্চমে উঠে এসেছে চিটাগং (চার পয়েন্ট)। আর তলানিতে নেমে গেছে দুই পয়েন্ট অর্জন করা সিলেট।

জয়ের জন্য করতে হবে ১৪০ রান। এ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলতে শুরু করেন চিটাগংয়ের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও তিলকারত্নে দিলশান। শেষ পর্যন্ত এই জুটি বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি সিলেটের কোন বোলারই। ব্যর্থ আফ্রিদি, তানভির, বোপারা, রাজ্জাকরা।

তামিম ও দিলশান দুজনেই ৬৭ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। ৫১ বলে ৬৭ করেন তামিম। আট চার থাকলেও ছিল না ছক্কার মার। তবে তামিমের চেয়ে এগিয়ে ছিল দিলশানই। ৬৭ রান করতে তিনি খেলেছেন মাত্র ৪৬ বল। চার হাকিয়েছেন ছয়টি, ছক্কা তিনটি। চলমান বিপিএলে এই প্রথম কোন দল ১০ উইকেটে জয়লাভ করল।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা বাজে ছিল সিলেটের। মাত্র ২২ রানেই নেই চার উইকেট। রান আউটের মাধ্যমে দিলশান মুনাবিরা সাজঘরে ফেরার সূচনা করেন। সেই দলে তার সঙ্গে একে একে যোগ দেন আরেক ওপেনার নুরুল হাসান, অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও ইংলিশ অলরাউন্ডার রবি বোপারা।

পঞ্চম উইকেটে মুমিনুল হক ও সদ্য দলে যোগ দেওয়া পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদির সঙ্গে জুটি বাধেন। বিপর্যয় কাটাতে এ দুজন এগুচ্ছিলেন ঠিক পথেই। তবে মুমিনুল আউট হলে সেই আশাও অনেকখানি ফিকে হয়ে যায়। এরপরও শহীদ আফ্রিদি নিজের মতো করে ব্যাট করতে থাকেন। অপরপ্রান্তে তার সঙ্গে যোগ দেওয়া নাজমুল হাসান মিলনও ফিরে যান দ্রুতই। সাজঘরে ফেরা ছয় ব্যাটসম্যানের মধ্যে শুধু রবি বোপারা (১১) দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন।

বাকিটা করেছেন আফ্রিদিই। ৪১ বলে ৬২ রান করেন তিনি। তবে সাজঘরে ফেরেন স্বদেশী বোলার মোহাম্মদ আমিরের বলে বোল্ড হয়ে। শেষের দিকে সোহেল তানভির ১৬ বলে করেন ১৭। আব্দুর রাজ্জাক ১২ বলে ১০ রানে থাকেন অপরাজিত। চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে শফিউল দুটি, আমির, ভাট্টি, তাসকিন ও আসিফ একটি করে উইকেট নেন।

সমগ্র বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক

এক্সক্লুসিভ